শেষ পর্যন্ত আওয়ামীলীগ বিএনপির সাথে সংলাপে রাজী ।

বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থাতে বিএনপির সাথে শর্তহীন সংলাপে রাজি নয়  আওয়ামী লীগ। তবে গণতন্ত্র ও নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে সংলাপের কথা ভাবছেন দলটির নীতিনির্ধারকেরা।

শর্তগুলোর মধ্যে বর্তমান সরকারকে বৈধ হিসেবে মেনে নেয়া, ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন না করা, গত বছর টানা তিন মাসের অবরোধ চলাকালীন নাশকতার দায় স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ এবং জামায়াতকে জোট থেকে বের করে দেয়া অন্যতম। গত মঙ্গলবার বেগম খালেদা জিয়ার সংলাপ আহ্বানের প্রস্তাবের জবাবে আওয়ামী লীগের সিনিয়র একাধিক নেতা এসব শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন।

আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিএনপি নিয়ে কঠোর অবস্থান থেকে খানিকটা সরে এসেছে সরকার। বেশ কিছু দিন ধরে বিএনপির ইতিবাচক রাজনৈতিক আচরণ ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের পর তাদের নিয়ে সরকারের মনোভাবেও পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে মঙ্গলবার সরকারের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনে রাজধানীতে বিশাল জনসভা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ায় এ পরিবর্তন স্পষ্ট হয়। ওই সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দেয়া বক্তব্য এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সংলাপ-সমঝোতার আহ্বান সব মহলেই প্রশংসা কুড়ায়।

সরকারও তার বক্তব্যকে বেশ ইতিবাচক হিসেবে নেয়। সে জন্য আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ সিনিয়র নেতারা ইতিবাচক রাজনীতির জন্য বিএনপিকে ধন্যবাদ দিয়ে ভবিষ্যতেও শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান। দল ও সরকারের সর্বোচ্চ মহলের ইঙ্গিতেই তারা এমন সুরে কথা বলছেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে খালেদা জিয়ার সংলাপ আহ্বানের প্রস্তাবে সরাসরি সাড়া দিতে নারাজ ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকেরা। তারা সংলাপের জন্য নানা মাধ্যমে বিএনপির প্রতি কয়েকটি শর্ত দিচ্ছে। এসব শর্তে রাজি হলেই সরকার সংলাপ প্রস্তাবে সাড়া দেবে বলে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচনের পরও প্রায় বছর খানেক বড় ধরনের আন্দোলনে না গিয়ে সরকারকে সময় দেয় বিএনপি জোট। কিন্তু এটিকে বিএনপির বড় ধরনের দুর্বলতা মনে করে নানা কটূক্তিতে মেতে উঠেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য বিরোধী জোটসহ দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে বারবার সংলাপের আহ্বান জানানো হলেও সরকারপক্ষ তা সরাসরি নাকচ করে দেয়। জনগণ এ সরকারকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছে দাবি করে সরকার বিএনপি জোটের সাথে কোনো ধরনের সংলাপে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের নেতা-মন্ত্রীরা। এমন প্রেক্ষাপটে গত বছর ৫ জানুয়ারি সরকারের প্রথম বর্ষ পূর্তিকে কেন্দ্র নতুন রাজনৈতিক ঝড় শুরু হয়। ওই দিন রাজধানীতে সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে দেশব্যাপী লাগাতার অবরোধ ও হরতালের ডাক দেয় বিএনপি জোট।

কিন্তু তিন মাসের সেই টানা অবরোধে সরকারের ব্যাপক দমন-পীড়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠে। বিএনপি জোটও আন্দোলনের মাঠ ত্যাগ করে খানিকটা চুপসে যায়। এরপর বিভিন্ন ধরনের সরকারি নিয়ন্ত্রণের মুখে ঘরোয়াভাবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। সরকারও বিএনপির প্রতি খানিকটা নমনীয় হয়। বিশেষ করে নানা জল্পনা-কল্পনা ও নাটকীয়তার পর গত ৫ জানুয়ারি রাজধানীতে বিএনপিকে নির্বিঘেœ সমাবেশ করতে দিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা সেই ভাব প্রকাশ করেন। তবে ওই সমাবেশে খালেদা জিয়ার দেয়া বক্তব্যের প্রশংসা করলেও আপাতত শর্তহীন সংলাপে রাজি নন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি তিনটি শর্ত মানলে গণতন্ত্রের স্বার্থে ‘সমঝোতা ও সংলাপের’ জন্য আওয়ামী লীগ ‘রক্তাক্ত ইতিহাসসহ অনেক কিছু ভুলতে পারে। খালেদা জিয়া ১৫ আগস্টে জন্মদিন উদযাপন বন্ধ করলে আওয়ামী লীগ বিএনপির সাথে সমঝোতায় বসতে পারে। এ ছাড়া বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সুরে কথা বলা বন্ধ করতে হবে এবং পাকিস্তানি ভাবধারার রাজনীতি থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের পরিষ্কার কথা গণতন্ত্রের স্বার্থে সমঝোতা চাই। তাই বিএনপি এই তিন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে সংলাপও হবে, সমঝোতাও হবে।

তবে খানিকটা দ্বিমত পোষণ করে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, দেশে এখন কোনো সঙ্কট নেই, বরং প্রত্যাশার চেয়ে দেশ বেশি এগিয়ে যাচ্ছে। পুরো দেশের মানুষের ওপর সরকার আস্থার জায়গা সৃষ্টি করেছেন। এ মুহূর্তে সংলাপের কোনো ইস্যু নেই। তবুও গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকারের সাথে সংলাপ চাইলে তিন মাসের অবরোধে পেট্রলবোমা ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর জন্য আগে দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়াকে মা চাইতে হবে। কারণ, বাংলাদেশের মানুষ কোনো খুনি-হত্যাকারীর সাথে বৈঠক করা পছন্দ করে না।

দলের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া এখনো বর্তমান সরকারকে স্বীকার করেন না। তিনি বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তি করেন। ১৫ আগস্ট জাতির শোকের দিনে কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন। যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গ ছাড়ার ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো কথা বলছেন না। তাহলে কিভাবে সংলাপ হবে? তিনি নিজের দলকে টিকিয়ে রাখতে হলে এসব ত্যাগ করতে হবে। তাহলে গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকার তার সাথে সংলাপে বসতে রাজি আছে।

দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যিনি যুদ্ধাপরাধীদের সাথে নিয়ে রাজনীতি করেন ও জঙ্গি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক রাখেন তার সাথে সংলাপ হতে পারে না। তবে হ্যাঁ, খালেদা জিয়া যদি সন্ত্রাস ত্যাগ করেন, যুদ্ধাপরাধীদের ত্যাগ করেন, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক ছাড়েন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন মেনে নেন, তাহলে আমরা কথা বলতে চাই। সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই

৫ ই মে গনতন্ত্র হত্যা দিবস

৫ই জানুয়ারী গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্খে সমাবেশ করে,
নওগাঁ জেলা বিএনপি ! সাথে ছিলেন নওগাঁ পৌরসভার নব নির্বাচিত মেয়র সনি ভাই।

 
Design by Naogaon IT Solution |Design for ngnchatrodol | Naogaon