লজ্জা থাকলে বিদায় নিন: হাসিনাকে খালেদা জিয়া


 
আল্লাহ'র গজব পড়বে!!! (সম্পূর্ণ বক্তব্য সংযুক্ত)
লজ্জা থাকলে বিদায় নিন: হাসিনাকে খালেদা জিয়া
--------------------------------------
বিএনপির চলমান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রোববার বিকেলে গুলশানের বাসভবনের সামনে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এ ঘোষণা দেন তিনি। বাড়ির ফটকে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও বের হতে না পেরে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে সরকারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া।

এর আগে তিনি কয়েকটি টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে বলেন, “এই সরকার অবৈধ সরকার, অগণতান্ত্রিক সরকার। সরকারের যদি লজ্জা থাকে তাহলে অবিলম্বে তাদের বিদায় নেয়া উচিৎ। ”

তিনি আরো বলেন, আপনারা যা করছেন, তাতে আল্লাহ'র গজব পড়বে আপনাদের উপর!

নারী নিরাপত্তাকর্মীকে উদ্দেশ করে খালেদা জিয়াকে বলতে শোনা যায়: “এই যে মহিলা আপনি এখন কথা বলছেন না কেন। এতক্ষণ তো অনেক কথা বললেন। দেশ কোথায়? গোপালি? গোপালগঞ্জ জেলার নামই বদলিয়ে দেব। গোপালগঞ্জ আর থাকবে না।”

এ সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, “হাসিনার দালালি করে লাভ হবে না, দেশের সঙ্গে থাকেন, জনগণের সঙ্গে থাকেন। আপনাদের তো রাস্তার মধ্যে থাকার কথা, বাড়ির মধ্যে এসছেন কেন?

“আপনাদের মেয়েরা এত ঝগড়া করে কেন? বেয়াদব কোথাকার! আপনাদের অফিসার কোথায় গেল? বোঝেননি? এটা তো বাংলা ভাষা। আপনাদের সেই অফিসার কোথায়, যে আমার সঙ্গে কথা বলেছিল, তাকে ডাকেন। তাকে বলবেন আমার সঙ্গে যেন দেখা করে। আমি তার সঙ্গে কথা বলবো।”

এ কথা বলার পরই ফটকের ভেতরে ঢুকে যান খালেদা জিয়া।

এর আগে ফটকের ভেতরে সাদা রঙের গাড়ির সামনের আসনে প্রায় এক ঘণ্টা বসে থাকার পর পৌনে ৪টার সময় নেমে আসেন খালেদা।

এ সময় তার এক হাতে ছিল জাতীয় পাতাকা। বাড়ির উল্টো দিকে অপেক্ষায় থাকা গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে অন্য হাত নেড়ে তিনি পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন।

এরপর ‘অফ হোয়াইট’ রঙের শাড়ি পরিহিত খালেদাকে পতাকা হাতে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

খালেদা জিয়ার প্রটোকলের পুলিশ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে বলে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করলেও সকাল থেকেই তাদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

রোববার নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। তবে হাফিজ শনিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সকাল থেকে তারা সমাবেশ শুরু করবেন এবং খালেদা জিয়া যে কোনো সময় এতে যোগ দেবেন।

খালেদা জিয়া একদিন আগে এক ভিডিও বার্তায় তিনি উপস্থিত হতে না পারলেও সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। সেইসঙ্গে সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেন তিনি।

বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের খুন এবং তাকে বাধা দেয়ার পরিণত শুভ হবে না বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেছেন, আপনার পিতাও ৩০ হাজার মানুষ হত্যা করেছিল। তার পরিণতি ভালো হয়নি। এবারও পরিণতি ভালো হবে। এসবের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ ও কঠিন। শেখ হাসিনা রক্তগঙ্গা বইয়ে দিচ্ছেন। রক্তের সাগর পাড়ি দিয়ে নৌকা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না। নিজ বাসার সামনে খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেখি কতদিন আটকিয়ে রাখতে পারেন। যতদিন এরকম করবেন ততদিন কর্মসূচি চলবে।

এর আগে পতাকা হাতে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশি বাধার কারণে বাসা থেকে বের হতে পারেননি বিরোধীনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পুলিশি বাধার মধ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

বেগম খালেদা জিয়া বলেন, আগামী কালও মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এর আগে তিনি নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য গাড়িতে উঠে বসলেও তার বাসার গেটের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করে আটকে দেয়। তার নিরাপত্তা রক্ষীরা পুলিশকে গেট ছেড়ে দিতে বললেও পুুলিশ তাতে সাড়া দেয়নি। এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া নিজেই গাড়ির জানালা খোলে নিরাপত্তাকর্মীদের রাস্তা ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেন।

কিন্তু পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা এতে সাড়া দেননি। খালেদা জিয়া বাসা থেকে বের হবেন এ খবরে দুপুরের পর বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যব সদস্য বাড়ানো হয়। এর আগে গতকাল সন্ধ্যা থেকেই খালেদা জিয়ার বাসার চারপাশ ঘিরে ফেলে পুলিশ। বিএনপি চেয়ারপার্সনের বাসার প্রবেশ পথে পাঁচটি বালু ভর্তি ট্রাক দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়।

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর বিবৃতি


ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর বিবৃতি
28/12/20013

------------------------------------------------------------
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আওয়ামী শাসকের হাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের স্বার্থে দেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে ঢাকায় আসার জন্য যে ডাক দিয়েছেন তা সফল করতে যেকোন বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমবেত হওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিরোধী দলের যেকোন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে বানচাল করার লক্ষ্যে বর্তমান আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট সরকার বরাবরের মতো এবারও আগামীকালের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসী’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে সারাদেশ থেকে আগত লক্ষ লক্ষ মানুষের জণস্রোতকে ঠেকাতে দেশব্যাপী বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও সকল গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে রাজধানী ঢাকা গোটা দেশ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, মনে হয় দেশব্যাপী যেন সরকারের অঘোষিত হরতাল বা ১৪৪ ধারা চলছে। সরকার প্রশাসনযন্ত্রের সাহায্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য জনগণের বিরুদ্ধে নিজেরাই অবরোধ সৃষ্টি করেছে। রাজধানী ঢাকার সকল আবাসিক ও খাবার হোটেলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশীর নামে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে যাতে হোটেলে কোনো মানুষ প্রবেশ ও অবস্থান করতে না পারে। পাশাপাশি যৌথবাহিনীর মাধ্যমে সারাদেশে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের বাসায় বাসায় হামলা, বেআইনী তল্লাশীর নামে আসবাবপত্র ভাংচুর, বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়া, পরিবারের পুরুষ সদস্য ও মহিলাদের গ্রেফতার, অশালীন আচরণ এবং জুলুম-নির্যাতনের এক নজীরবিহীন ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে যা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।

মির্জা অলমগীর বলেন, এখনও পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপার্সনের বাসভবন ও তার গুলশানস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়সহ নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় সরকার কর্তৃক অবরুদ্ধ এবং নেতা-কর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে যা একদলীয় ও ফ্যাসিষ্ট সরকারের গণতন্ত্রের বিকৃত নমুনা হিসেবেই জনগণ মনে করে।

 
Design by Naogaon IT Solution |Design for ngnchatrodol | Naogaon