"১০ মাস সময় দিয়েছি, প্রস্তুত থাকেন সময়মত আন্দোলনের ডাক দেব"
আজ ২০ অক্টোবর ২০১৪ গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাজশাহী বিভাগের নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র এবং রাজশাহী বিভাগের জেলাসমূহের বিএনপি’র সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকগণ বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
ছবি: বাবুল তালুকদার
সম্পূর্ন বক্তব্যঃ
৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর আমরা আন্দোলন করিনি। আমরা চেয়েছিলাম শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকাররে মাধ্যমে একটা নির্বাচন দেবে সরকার। এই সরকারকে ১০ মাস সময় দিয়েছি, তারা ভেবেছে বিএনপিতো আন্দোলন করছেনা। নির্বাচন দিয়ে কি হবে! এখন আমরা আন্দোলনে যাব প্রস্তুত থাকেন সময়মত ডাক দেব।
বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, গণতন্ত্র, সুশাসন এবং ন্যায় বিচার ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আন্দোলন করছে। সময় মতো আন্দোলনের মধ্যমে নির্লজ্জ সরকারকে হটানো হবে।
আমাদের দলের দুইজন জনপ্রিয় নেতা বারবার নির্বাচিত এমপি ইলিয়াস আলী ও কুমিল্লার সাবেক এমপি হিরুকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে ১১জনকে গুমের পর হত্যা করা হয়েছে। খুনের ঘটনা দেখে ফেলায় নিরপরাধ নৌকার মাঝিকেও হত্যা করা হয়েছে। তাদের হত্যা করেছে র্যাব। কিন্তু এ র্যাবের ওপরও অভিযুক্ত আছে। এ দায় সরকারকে নিতে হবে। মৃত্যুর পর আল্লাহর কাছে যেমন জবাবদিহি করতে হবে, দুনিয়াতে জনগণের কাছেও জবাবদিহি করতে হবে।
যে সরকারের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে মানুষকে হত্যা করে তারা পাক আর্মি ও এরশাদের চেয়েও খারাপ। র্যাব ফ্রি স্টাইলে মানুষকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, গুম করছে এবং খুন করছে। অবৈধ সরকার এর দায় এড়াতে পারবে না। একদিন এর বিচার হবে।
মানুষ এভাবে খুন করতে পারে, গুম করতে পারে? এরা কি মানুষ। এরা তো বিকৃত মস্তিষ্কের। বিকৃত মস্তিষ্কের লোক সঠিকভাবে দেশ চালাতে পারে না। আর এ বিকৃত মস্তিষ্কের কথা তো আদালতই বলেছে।
এ সরকার অবৈধ। ১৫১জন যদি বিনাভোটে নির্বাচিত হয়ে যায় তবে মানুষের ভোটাধিকার কই? তিনি বলেন, ৮৬ সালে তো আমরা হারিনি। সেদিনও আমরা আপস করিনি বলে পাতানো নির্বাচনে যাইনি। সেদিন এরশাদ ছিল, আওয়ামী লীগ ছিল, জামায়াতও ছিল। তারপরও তারা ৫ বছর সরকার চালাতে পারেনি। এরা তো অবৈধ, এরা কিভাবে চালাবে।
সরকার মিথ্যাচারী, খুনী ও অত্যাচারী। তাই এতো ব্যর্থতার পরেও তারা পদত্যাগ করছে না। বিনা ভোটে ক্ষমতায় এসে যতদিন পারে ততদিন ক্ষমতায় থাকতে চায়। অতীতে কেউ এমন পরেননি। এই সরকারও পারবে না।
আপনারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত, আর ক্ষমতাসীনরা অনির্বাচিত। সে কারণেই দেশের প্রতি তাদের এতো উদাসীনতা। লুটপাট আর চাঁদাবাজিতেই তারা ব্যস্ত।
বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আপনাদের দায়িত্ব দেয়া হবে। এলাকার উন্নয়নে আপনাদের অংশ নিশ্চিত করা হবে। বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, গণতন্ত্র, সুশাসন এবং ন্যায় বিচার ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আন্দোলন করছে। সময় মতো আন্দোলনের মধ্যমে নির্লজ্জ সরকারকে হটানো হবে।
আপনারা জনগণের প্রতিনিধি তাই জনগণের কাছে যাবেন। আপনারা জনগণকে সরকারের অনিয়মের কথা বুঝাবেন। যে সময়ে আমি আন্দোলনের আহ্বান জানাব, আপনারা হাজির হবেন। আন্দোলনের মাধ্যমেই এদের বিদায় করব। খুন-গুম থেকে মানুষকে রক্ষা করব। দেশের পরিবর্তন আনব। তিনি বলেন, দেশে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা পেলে বিদেশী বিনিয়োগ আসবে, দেশের উন্নয়ন হবে। আমরা দেখিয়ে দেব-আমরা পেরেছিলাম, আমরাই পারব।
তারা (সরকার) মানুষের দুভোগ লাঘবে কেনো চিন্তা না করে শুধু ব্যস্ত কিভাবে অবৈধ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করবে। এই সরকারকে অবশ্যই বিদায় করতে হবে।
আমাদের লক্ষ্য হবে জনগনের কল্যাণ, মানুষের জন্য কাজ করা। দুর্নীতি করে সম্পদ বানানো নয়। জনগনের কল্যাণে ভবিষ্যতে এ নিয়ে আমাদের অনেক পরিকল্পনা আছে।



